সাত কলেজের আন্দোলনে বিপাকে পড়েন সাত কলেজের পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃঅকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে প্রমোশনসহ তিন দফা দাবিতে সকাল ১১টার দিকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের অনার্স ১ম বর্ষ, ২য় বর্ষ, ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা অবরোধ করে রাখেন। এতে বিপাকে পড়েন পরীক্ষা দিতে আসা সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা। অবরোধের ফলে সৃষ্ট জ্যামে সময়মত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী। আবার অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে বাসায় পৌঁছাতে পড়েন ভোগান্তিতে।

সাত কলেজের আজ (১৬ মার্চ)  সকাল ৯টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ২০২০ সালের  অনার্স চতুর্থ বর্ষ, দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২০১৯ সালের মাস্টার্স শেষ পর্ব, দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২০১৭ সালের মাস্টার্স শেষ পর্ব (বিশেষ) পরীক্ষা ছিল।

ইডেন মহিলা কলেজের মাস্টার্স শিক্ষার্থী পারভীন আক্তার বলেন, আমি ফার্মগেট থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত লেগুনা দিয়ে যাই৷ কিন্তু পান্থপথ সিগন্যাল আসার পরেই জ্যাম শুরু হয়। এরপর হেঁটে আমি পান্থপথ থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত আসতে ১টা বেজে যায়। আমার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ। নীলক্ষেত থেকে সেখানে পৌঁছাতে আরো আধঘণ্টার মতো লাগতো। দুঘন্টার পরীক্ষায় দেড়ঘণ্টা পর কেন্দ্রে পৌঁছালে তো আর পরীক্ষা দিয়ে লাভ নেই। এ জন্য আমি আর পরীক্ষা কেন্দ্রেই যাইনি।

ঢাকা কলেজের মাস্টার্স শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, আমার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ইডেন মহিলা কলেজে। ধানমন্ডি কলাবাগান থেকে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাইছি পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট পর। দুঘণ্টার পরীক্ষায় লিখা শুরু করতে আধাঘণ্টা চলে গেলে কিভাবে ভালো পরীক্ষা দেওয়া যায়? আমার মতো আরো অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে আজ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো –

১) করোনা বিবেচনায় সিজিপিএ শর্ত শিথিল করে ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় পরবর্তী বর্ষে প্রমোশন দিতে হবে।

২) দর্শন বিভাগের প্রশ্নের মানবন্টন পরিবর্তন করতে হবে। ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৮০ মার্কের পরীক্ষা নিতে হবে এবং ২০ নম্বর ইনকোর্স এর মাধ্যমে যোগ করতে হবে।

৩) গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ নির্ধারণ ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here