অজান্তেই ছেলে মেয়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি হচ্ছে!

নিউজ ডেস্কঃসন্তান প্রতিটি বাবা মার কাছেই বড় আদরের। কিন্তু ছেলে সন্তান আর মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে এই আদরের কমতি পড়ছে না তো। যদিও আগে ছেলে আর মেয়ে সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করা হতো তবে এখন আর তা করা হয় না। কিন্তু অজান্তেই আপনি তাদের লালন পালনে কিছু ভুল করে ফেলছেন তা কি জানেন?

ছেলে মেয়ের লালন পালনে নিজের অজান্তেই কিছু ভুল করে বসেন অনেক অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিটি বাবা মারই এই ভুলগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। পাশাপাশি এই ভুলগুলো যেন আর না হয় সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।

মনোবিদরা বলছেন, সন্তানের জন্য খেলনা কিনতে যাওয়ার সময়ই প্রথম ভেদাভেদের বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। মেয়ে হলে পুতুল, কিচেন সেট, কিনে দেওয়া হয়, আর ছেলের জন্য খেলনা বলতে টয় গান, গাড়ি, ভিডিও গেমেই হাত যায় সবার আগে।

মেয়েরা যদি কোনও গাড়ি বা বন্দুকের প্রতি আকৃষ্টও হয় সেক্ষেত্রে তাদের হাতে জোর করে পুতুল বা খেলনা বাটি ধরিয়ে দেওয়ার মতো অভিভাবকের সংখ্যাও বর্তমান সমাজে কম নয়। তাই নিজে পছন্দ না করে এক্ষেত্রে সন্তানকেই পছন্দ করতে দিন ওর পছন্দের খেলনাকে। সেই সঙ্গে তার পছন্দের খেলাধুলাতেও অংশগ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিন।

পরিবারে রান্না বা ঘর গোছানোর কাজে সহযোগিতা জন্য মেয়ে সন্তানকেই এগিয়ে আসতে বলা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটি কখনও দেখা যায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই রান্নার কাজ শেখানো উচিত।

বর্তমানে অনেক ছেলেই বাইরে থেকে পড়াশোনা বা চাকরি করে। রান্না জানা থাকলে নিজের খেয়ালখুশি মতো খাওয়ার স্বাধীনতা থাকবে তাদের। আবার মেয়েরাও বর্তমানে চাকরি করে। তারপরও বাড়ি এসে রান্না করা, সংসার সামলানোর কাজ করে থাকে। তাই শুধু মেয়েদেরই রান্নাঘরের কাজ শেখানোর ওপর জোর দেবেন না। অভিভাবকদের এহেন ভেদাভেদ আপনার ছেলে বা মেয়ের দাম্পত্য জীবনকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এছাড়াও কোনো ভুলের জন্য কখনও ছেলে সন্তানকে সাপোর্ট করবেন না। অনেক ক্ষেত্রে ছেলের দোষ জানা সত্ত্বেও মেয়েকেই বকাঝকা করেন অভিভাবকরা। এই ভুল কাজটি থেকেও বিরত থাকতে হবে বাবা মাকে। আপনার তৈরি করা বিভেদ ভাই বোনের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই তাই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনও ধরনের পার্থক্যও করা উচিত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here