চলন্ত প্রাইভেটকারে বন্ধুদের নিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করল সাবেক স্বামী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:মানিকগঞ্জ থেকে প্রাইভেটকারে তুলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিয়ে সাবেক স্বামীসহ চার বন্ধু মিলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক স্বামী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার টুটিয়াম গ্রামের সৈকত আলীর ছেলে ৩৮ বছর বয়সী আল-মামুন রশিদ, বরিশাল বিমানবন্দর থানার গণপাড়া গ্রামের আব্দুল হাসেম মাঝির ছেলে আব্দুর রব মুন্না, হাসু ও রিয়াজ। এর মধ্যে সাবেক স্বামী মামুনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে মামুনের সঙ্গে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ৪৫ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এর আগে ২০১১ সালে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিয়ে হয়। ওই ঘরে গৃহবধূর তিনটি সন্তান রয়েছে। প্রথম স্বামী আরেকটি বিয়ে করায় কিছুদিন পর তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর আল-মামুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন গৃহবধূ। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই গৃহবধূকে মারধর করতেন মামুন।

উপায় না পেয়ে ২০২১ সালে মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর একই বছরের ১৫ নভেম্বর গৃহবধূকে তালাক দেন মামুন। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে তাকে হুমকিও দিতে থাকেন।

১২ মার্চ বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিনজুরী গ্রামে ফুফুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন গৃহবধূ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘিওর পাঁচ রাস্তার কাছে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছালে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে নেমে তাকে ঘিরে ফেলেন সাবেক স্বামী আল-মামুনসহ আরো তিন বন্ধু। পরে মুখ চেপে প্রাইভেটকারের পেছনে তুলে নেন তারা।

এ সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন রিয়াজ। কিছুক্ষণ পর গৃহবধূকে কোমল পানীয়তে নেশা জাতীয় কিছু পান করালে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর চলন্ত প্রাইভেটকারে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন মামুন, আব্দুর রব মুন্না ও হাসু। গাড়িটি পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ফাঁকা ভিটায় যায়। সেখানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূকে ফেলে পালিয়ে যান তারা। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন।

গোয়ালন্দ থানা পুলিশ রাতে বাহাদুরপুর কালুর মোড় এলাকা থেকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে ১৩ মার্চ রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় উল্লেখিত চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন গৃহবধূ। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাঈন উদ্দিন চৌধুরী।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে শনিবার মধ্যরাতেই গৃহবধূকে উদ্ধার করি। পরদিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন গৃহবধূ। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা ধর্ষণ সংক্রান্ত কোনো বিষয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। সোমবার বিকেলে গৃহবধূকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here