বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমানের যুদ্ধজয়ের গল্প

আব্দুর রব, মৌলভীবাজার:বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই সীমান্তে বুক চিতিয়ে লড়েছেন।

পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে হামিদুর রহমান শহীদ হলে নিজ কাঁধে সহযোদ্ধার লাশ বহন করে ভারতের আমবাসায় দাফন করেন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় অনেক আক্ষেপ ঝড়ে পড়ে রণাঙ্গনের এ নায়কের কণ্ঠ থেকে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান বসবাস করেন কমলগঞ্জের শমশেরনগরে। তার নিজ বাড়িতে কথা হয় এ বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে।

জানা যায়, বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ শরীরে বাসা বেঁধেছে, অধিকাংশ সময় তার বিছানায় কাটে। মাঝে মাঝে কারো সহায়তায় বারান্দায় এসে বসেন।

সাহসী এ বীরযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। যুদ্ধদিনের গল্প করেন। গল্প করতে করতে তার চোখ বারবার ঝাপসা হয়ে আসে। গল্প করেন যুদ্ধদিনের যুদ্ধের বিভিন্ন সঙ্গীদের নিয়ে। গল্প করেন সহযোদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সাহস ও বীরত্ব নিয়ে।

রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প দিয়ে শুরু করেন কথোপকথন। কখনো হাসি, কখনো ক্ষোভ, কখনো চোখের কোনে জল।

একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি জানান, ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করা এ যোদ্ধার ১৯৫২ সালে বয়স ১১ ছিলো। সে সময় একটু একটু  বুঝতে শুরু করেন, ভাষা আন্দোলন কেনো এবং রাজনীতি। কবি সাহিত্যিকদের সংস্পর্শ ন্যাপ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সাহচর্যে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

প্রথমে আওয়ামী লীগে যুক্ত হন, পরে কিছুদিন ন্যাপের সঙ্গে, যুদ্ধের আগে পুনরায় আওয়ামী লীগে চলে আসেন। আজ অবধি বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন করে এ দলের একজন হিসেবে আছেন।

সাত বোনের এক ভাই সাজ্জাদুর রহমান। ১৯৫৮ সালে এসএসসি পাশ করে এইচএসসিতে ভর্তি হন। মা নেই, বাবা বৃদ্ধ সংসার চলে না, অভাবের সংসারে এইচএসসিতে পড়া অবস্থায় চাকরি নেন ব্যাংকে। সেই টাকায়ও হিমশিম খেতে হয়। বন্ধুদের পরামর্শে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য ইন্টারভিউ দেন, কিন্ত যারা ইন্টারভিউ নিয়েছিলো সবাই ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানি। বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন করে বাদ দেওয়া হয় তাকে। উচ্চতা ছিলো, শারীরিক গড়ন  ছিলো, শিক্ষা ছিলো এরপরও চাকরি না হওয়ায় জেদ চেপে বসে তার।

তখন তিনি জানলেন সেনাবাহিনীতে ৯০ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তানি ও বিমান বাহিনীতে ৯৮ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তানি নেয়া হতো। তখন অনুধাবন করেন অনেক বেশি বৈষম্য করা হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানিদের সঙ্গে। এরপর আনসার বাহিনীতে ইন্টারভিউ দিলে চাকরি  হয়ে যায়। তিন মাসের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি হয় তার। সে সময় সাত বোনের মধ্যে তিন বোনের বিয়ে হয়, চার বোন অবিবাহিত। অনেক দায় তার ওপর। এর মধ্যে সারাদেশে তুমুল আলোচনা পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে, বৈষম্য নিয়ে, অধিকারের প্রশ্নে।

বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ শুনেন রেডিওতে। সেই ভাষণের পরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সভা ডাকা হয় শমশেরনগর ডাকবাংলোতে। সভায় তখনকার আওয়ামী লীগের সম্পাদক গফুর ও মোহাম্মদ ইলিয়াস সভায় উপস্থিত ছিলেন। সাজ্জাদুর রহমানকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি করা হয়, এবং বলা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য।

সভায় মোহাম্মদ ইলিয়াস ঘোষণা দেন এই কমিটি সাজ্জাদুর রহমানের নেতৃত্বে চলবে এবং বিভিন্ন কলাকৌশল, যুদ্ধসামগ্রী, আন্দোলন তার নেতৃত্বে হবে।

কমিটি গঠনের পরই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকারের পক্ষে বিশাল সমাবেশ করা হয় শমশেরনগরে, কমলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যেক ইউপির মানুষ উপস্থিত ছিলেন সে সমাবেশে।

২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যার প্রতিবাদে ২৬ মার্চ কমলগঞ্জে সাজ্জাদুর রহমানসহ অন্যান্যদের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। পাকিস্তানি সেনারা সেই মিছিলে গুলি চালালে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডে উপজেলাবাসীর মনে জ্বলে ওঠে প্রতিশোধের আগুন। স্থানীয় বাঙালি ইপিআর ও পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের একাত্ম করেন সাজ্জাদুর রহমান।

তৎকালীন সময় ইপিআর (বর্তমান বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে বিভিন্ন সীমান্ত  উন্মুক্ত করে সব সদস্যদের যুদ্ধের জন্য নিয়ে আসেন। ধলই, কুরমা, চাতলাপুর ও আলীনগর বিওপির সব সদস্য সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সবাই একাত্ম হয় যুদ্ধে নামতে হবে।

ইপিআর সদস্যরা বৃদ্ধ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানি সৈন্যদের হত্যার আগ্রহ দেখালে, সাজ্জাদুর রহমান সমর্থন জানান।

২৮ মার্চ শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সব অস্ত্র উঠিয়ে আনা হয়, রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় পাকিস্তানি সেনারা ভানুগাছ থেকে শমসেরনগরে এলে মুক্তিসেনাদের অতর্কিত আক্রমণে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ১১ জন পাকিস্তানি সেনা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

স্বাধীনতার ঊষালগ্নের এই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে প্রচুর অস্ত্র-গোলাবারুদসহ পাকিস্তানিদের দুটি গাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সারাদেশের মধ্যে শমশেরনগরই সর্বপ্রথম পরিকল্পিত সম্মুখ সমরে ১১ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে ইতিহাস রচনা করা হয়। এরপর শমশেরনগর ছেড়ে মানুষ পালাতে থাকে, কখন পাকিস্তানিরা এসে হত্যা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করবে এ ভয়ে।

এ ঘটনার পর পাকিস্তানি বাহিনী জল, স্থল ও আকাশপথে কমলগঞ্জে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। মুক্তিবাহিনী তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে মোকাবিলা করে। ন্যাপ নেতা মফিজ আলী, ক্যাপ্টেন মোজাফফর আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা এমএ গফুর, ময়না মিয়া, ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখের সাহসী নেতৃত্বে সাহসিকতার সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করে মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর পাকিস্তানি সেনারা শমশেরনগরে ধারাবাহিক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদুর রহমান জানান, এ অবস্থার মধ্যে শমশেরনগর আসেন মেজর সিআর দত্ত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী। তারা এসে আওয়ামী লীগ নেতা এমএ গফুর ও আমার কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘তোমাদের অপারেশনে ১১ পাকবাহিনীকে মেরে ফেলেছো, এতোবড় অপারেশন বাংলাদেশে প্রথম। তোমাদের সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে দেশের বাইরেও গিয়েছে।

তখন মেজর সি আর দত্ত ও মানিক চৌধুরীর নির্দেশে সহযোদ্ধাদের নিয়ে সাজ্জাদুর রহমান মৌলভীবাজার জেলা হেডকোয়ার্টারে আসেন।

জেলা হেডকোয়ার্টারে প্রথম তারাই অস্ত্রসহ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। পাক বাহিনী পিছু হটে কুশিয়ারা নদীর পাড়ে ঘাঁটি করে। সেখানেও আক্রমণ করে পাকিস্তানি বাহিনীকে সিলেটের দিকে যেতে বাধ্য করেন। সি আর দত্ত ও মানিক চৌধুরীর নেতৃত্বে সাজ্জাদুর রহমান ও অন্য যোদ্ধারা যুদ্ধ করতে করতে সিলেটের দিকে অগ্রসর হন।

এক পর্যায়ে সিলেট শহরে প্রবেশ করে জানতে পারি অনেক মুক্তিসংগ্রামীকে জেলে আটকে রেখেছে পাকিস্তানি বাহিনী।

জেলের তালা ভেঙে অনেক মুক্তিসংগ্রামী ও সংগঠককে মুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আজিজুর রহমান। জেলের তালা ভাঙায় হাজারো জেলবন্দী জেল থেকে বের হতে থাকেন এবং তারা দ্রুত শহর ছাড়েন।

এদিনের পর সিআর দত্ত নির্দেশ দেন ‘সবাই বর্ডার অতিক্রম করে ভারতে চলে যাও ট্রেনিংসহ যুদ্ধের বৃহৎ প্রস্তুতির জন্য।’

সি আর দত্ত জিজ্ঞেস করলেন, ‘সাজ্জাদ তুমি কোন দিকে যাবে, আমি বললাম স্যার আমার মা নেই, বাবা বৃদ্ধ, অবিবাহিত দুই বোন বাড়িতে, তারা কি করছে, কি খাচ্ছে জানি না। আমি বাড়িতে গিয়ে তাদের দেখে সীমান্ত পাড়ি দেবো। সে অনুযায়ী বাড়ি হয়ে সীমান্তের ওপারে যাই। সেখানে আমার দায়িত্ব পড়ে কৈলাশহরের কমলপুরে। সেখান আমাদের সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্তের নির্দেশে চলে যুদ্ধ ও বিভিন্ন অপারেশন।

সাজ্জাদুর রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর শেষ রাত থেকে ২৮ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কমলগঞ্জের ধলাই সীমান্তে ইপিআর (বর্তমান বিজিবি) ফাঁড়ির সামনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধ চলে।

ধলাই সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের এ প্লাটুনের এসল্ট অফিসার ছিলেন মেজর কাইয়ুম চৌধুরী আর সিপাহি হামিদুর রহমান ছিলেন মেজর কাইয়ুম চৌধুরীর বার্তাবাহক ।

টানা চার দিনেও পাকিস্তানি বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটাতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থা জানানো হয় সিআর দত্তকে। সিআর দত্তের কঠিন হুঁশিয়ারি ‘যুদ্ধের ময়দানে পিছু হটা যাবে না’।

সি আর দত্তের এমন নির্দেশ মেজর কাইয়ুম চৌধুরী, হামিদুর রহমানকে জানান। সিপাহি হামিদুর রহমান স্বেচ্ছায় পাকিস্তানি বাহিনীর লাইট মেশিন গান ধ্বংস করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

২৮ অক্টোবর ভোর রাতে লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নেতৃত্বে একটি দল পাক সেনাদের ওপর চতুর্দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালায়। ব্যাপক গোলাবর্ষণে পাক সেনাদের ক্যাম্পে আগুন ধরে যায়। প্রচণ্ড গুলিবর্ষণ ও পাকবাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিষ্ফোরণে বেশ কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন। সিপাহী হামিদুর রহমান সাহসিকতার সঙ্গে সীমান্ত চৌকি দখলের উদ্দেশ্যে সব ধরনের অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুকে তুচ্ছ ভেবে ২৮ অক্টোবর ঘন কুয়াশা ও প্রবল গুলিবর্ষণের মধ্যে ভোর ৪টায় প্রায় আধা কিলোমিটার পথ গ্রেনেড হাতে ক্রলিং করে ধলাই ইপিআর ক্যাম্পে পাকিস্তানি শক্তিশালী অবস্থানের ওপর গ্রেনেড হামলা চালান। মেশিনগান নিয়ে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে শত্রু পক্ষের ৫০ গজের মধ্যে ঢুকে পড়েন। গর্জে উঠে তার হাতের মেশিনগান, ধ্বংস করেন পাক বাহিনীর লাইট মেশিন গান। এভাবে আক্রমণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন।

এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল উদ্যমে এগিয়ে যান এবং শত্রু পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করতে সমর্থ হন। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ফিরে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনাদের একটি গুলি এসে বুকে লাগে সিপাহি হামিদুর রহমানের। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন হামিদুর রহমান।

হামিদুর রহমান বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি। পরবর্তীতে সব সহযোদ্ধারা এসে খুঁজে বের করলেন বীর সিপাহি হামিদুর রহমানের লাশ। পরে হামিদুর রহমানের লাশ ভারতে আমাদের ক্যাম্পে নিয়ে আসি। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরার ছোট গ্রাম আমবাসায় নিয়ে তাকে দাফন করা হয়।

২০০৭ সালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের লাশ দেশে আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। তখন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় তাদের মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যায়। সাজ্জাদুর রহমানের বর্ণনা ও তার সহায়তায় হামিদুর রহমানের লাশ দেশে আনা হয়। দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কি মূল্যায়ন, জানতে চাইলে অনেকক্ষণ নীরব থাকেন।

চোখের কোনে জল নিয়ে বলেন, পত্রিকায় দেখি, বিভিন্ন মানুষজনও বলেন, এখন নতুন মুক্তিযোদ্ধা বাড়ছে। যুদ্ধের সময় যার বয়স ৬ বছর সেও নাকি এখন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের ৪০-৫০ বছর পরও এ তালিকা বৃদ্ধি সম্মানের নয় বলে তিনি মনে করেন।

‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজে যারা ভাতা নেয় তাদের লজ্জা নেই। ভাতা আর কয় টাকা মিলে, যা টাকা পাই তা আমার ওষুধের খরচও চলে না। আমার কোনো চাহিদা নেই, চারটা ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে আছি এটাই শান্তি। শান্তিতে আছি আমার ছেলেমেয়েরা ছোট ছোট চাকরি করছে সৎ পথে থেকে। তারা চারটা ভাত খাচ্ছে আমাকেও খাওয়াচ্ছে। ’

রাষ্ট্রের কাছে কি চান জানতে চাইলে বলেন, ‘চাওয়ার কিছু নেই, যুদ্ধকালীন ভাতা পাচ্ছি আর খাচ্ছি, পেট চলছে।

সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘পেট তো চলছে, এখন তো আর চাইলে রোজগার করতে পারবো না।’

আলাপের শেষ অংশে বলেন, ‘অনেক কিছু বলতে পারি না, বলতে চাইও না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here