বাবুগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান এর সদিচ্ছায় মসজিদ কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন মুসল্লিগন

 

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বাবুগঞ্জ উপজেলা মাধপপাশা ইউনিয়নে দক্ষিণ পাংশা বায়তুল আনাম জামে মসজিদে কমিটি গঠন নিয়ে মুসুল্লিদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিলে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল উদার মানসিকতায় মাধ্যমে মুসুল্লিদের মধ্যে এক অনন্য ভাতৃত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন-অর-রশিদ সরদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হক শরীফ এর বিচক্ষণতা অদূরদর্শিতার দৃষ্টিপাত করে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপ্রণোদিত হয়ে গত ১ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজে উপস্থিত হয় মুসল্লিদের মাঝে কোরআন হাদিসের আলোকে মসজিদ কমিটি গঠন ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত মুসল্লিদের অনুরোধের মুসল্লিদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির অবসান করার লক্ষ্যে
সাধারণ মুসলিমদের অবগতি না করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে নেতৃস্থানীয় তিনজন প্রবীণ মুসল্লিদের কমিটি গঠনের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত মুছুল্লি গন হলো,হাফেজ মোঃ করিম সরদার, মোঃ আবুল হোসেন খান ওমোঃ আবুল কালাম আজাদ। মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ সরদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃমোজাম্মেল হক শরীফ, উপজেলা চেয়ারম্যান এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন মসজিদ আল্লাহর ঘর এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য বা মতপার্থক্য থাকা উচিত নয়। এরা যে সিদ্ধান্ত নিবেন আল্লাহর ঘরের খেদমতের জন্য সকালের মেনে নেওয়া উচিত।
তাই সঠিক জ্ঞানের চর্চা না থাকায় এবং নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদের কমিটি গঠনে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের এ সিদ্ধান্ত শুনে মুসলিমদের মধ্যে তাকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোঃ ফজলুল হক হাওলাদার, মোঃসিদ্দিক তালুকদার, মোঃ সেকান্দার হাওলাদার ,মোঃ মন্নান শরীফ।
উপজেলা চেয়ারম্যান তার আলোচনায় বলেন ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মসজিদ কমিটির পদকে নেতৃত্ব মনে করা চরম বোকামী। মসজিদ কমিটির কোথাও জায়াগা হলে এটাকে নিছক খেদমত মনে করা দরকার।
এ খেদমত আল্লাহর ঘরের খেদমত। মুসল্লিদের খেদমত।
তাই দুনিয়ার কোনো চাওয়া-পাওয়া ব্যতিরেকে মুক্তমনে শুধু আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছায় ইবাদত মনে করে খেদমতের মানসিকতা নিয়ে কমিটিতে অংশ নিতে হয়। সামাজিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির অভিলাষে কমিটিতে যোগ দেওয়া হারাম।

প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে ক্ষেত্রবিশেষ অর্থের অপচয় হয়, দলাদলির সৃষ্টি হয়, কোন্দল বৃদ্ধি পায়, পরষ্পর শত্রুতার স্থায়ী বীজ বপন হয় ও মহল্লাবাসী বিভক্ত হয়ে যায়। তাই পরামর্শের ভিত্তিতে কমিটি গঠন যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে মহল্লার মুরুব্বি, নামাজি, পরহেজগার ও জ্ঞানীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
আলেমদের অভিমত হলো, কাউকে কোনো দায়িত্ব দেয়ার পর তিনি যতদিন পর্যন্ত সুস্থতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, দুর্নীতি ও চরিত্রহীনতার শিকার না হোন এবং স্বেচ্ছায় অব্যাহতি না নেন- ততদিন পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে না সরানো ভালো। এতে করে কাজের ধারাবাহিকতা ঠিক থাকে।

মসজিদ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার যোগ্যতা নয়টি। যথা-
১. মোতাওয়াল্লি বা কমিটির সভাপতি হবেন তারা-
ক. মসজিদের জমিদাতা, খ. তদীয় কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি, গ. ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান, ঘ. তদীয় নিযুক্ত স্থানীয় প্রশাসক, ঙ. কোরআন-সুন্নাহমতে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি, চ. মহল্লাবাসী কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি।
২. প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া।
৩. মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া।
৪. ওয়াকফ, দান ইত্যাদি সংগ্রহ ও ব্যয় সম্পর্কে শরয়ী মাসআলার জ্ঞান থাকা।
৫. মসজিদ ব্যবস্থাপনার বৈষয়িক যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা।
৬. আমানতদার হওয়া। অর্থ আত্মসাৎ ও তসরুফ তো দূরের কথা সাময়িক তসরুফেরও কোনো আশঙ্কা না থাকা।
৭. এমন কোনো কাজের অভ্যাস না থাকা- যেগুলো মানুষকে সর্বস্বান্ত করে। যেমন- জুয়াখেলা, মদপান করা ইত্যাদি।
৮. কোনো কবিরা গুণাহতে প্রকাশ্যে লিপ্ত না থাকা। অতএব, যারা নামাজ পড়ে না, নামাজের জামাতে শরিক হয় না, রোজা রাখে না, ফরজ হওয়া সত্ত্বেও হজ করে না, জাকাত দেয় না, সুদি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, সুদ গ্রহণ করে এককথায় প্রকাশ্য পাপকাজে লিপ্ত কাউকে মসজিদ কমিটির জন্য মনোনীত করা নাজায়েয।
মসজিদ কমিটির কোনো সদস্যের ব্যাপারে কোনো কবিরা গুণাহতে জড়িত থাকার বিষয়টি সমাজে প্রকাশ পেয়ে গেলে তাকে বরখাস্ত করা ওয়াজিব। এমনকি, সে যদি জমিদাতা কিংবা ওয়াকফকারী কর্তৃক মনোনীতও হয় তবুও তাকে বরখাস্ত করতে হবে। -আদ দুররুল মুখতার, ওয়াকফ অধ্যায়
৯. মসজিদ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার আগ্রহ ও চেষ্টা না থাকা।

আল্লাহর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমরা কোনো পদপ্রার্থী বা পদপ্রত্যাশীকে পদ দেই না। -সহিহ বোখারি: ৭১৪৯

তিনি (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, তুমি পদপ্রার্থী হবে না। যদি প্রার্থী হয়ে পদ পাও তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা তোমার ওপর নিক্ষেপ করা হবে। আর যদি প্রার্থী না হয়ে পদ পাও তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে তোমাকে সাহায্য করা হবে। -সহিহ বোখারি: ৭১৪৭

মসজিদ কমিটির দায়িত্ব
১. মসজিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও উপার্জনের হেফাজত করা।
২. আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করা।
৩. সাধ্যমতো সর্বাধিক উপযুক্ত ইমাম নিয়োগ দেয়া।
৪. যোগ্য মোয়াজ্জিন নিয়োগ দেয়া।
৫. প্রয়োজন অনুপাতে খাদেম নিয়োগ দেয়া।
৬. প্রয়োজন অনুসারে মসজিদের নির্মাণ, মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা।
৭. অজু, ইস্তেঞ্জা, পানি, বাতি, পাখা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট হওয়া।
৮. মসজিদ আবাদের উদ্যোগ নেয়া। মসজিদ আবাদের অর্থ হলো- নিয়মিত আজান ও জামাত হওয়া, শিশুদের জন্য মক্তব থাকা, বয়ষ্কদের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা।

কমিটির সকল সদস্যদের উচিৎ উল্লেখিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালনে যত্নবান হওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here