পরীক্ষার ১৮ বছর পর বিসিএস ক্যাডার হলেন সুমনা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃসুমনা সরকার ২০০০ সালে ২৩তম বিশেষ বিসিএসে (স্বাস্থ্য) প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। কারণ, ওই সময়ে সুমনার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক অমল কৃষ্ণ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে জটিলতার অভিযোগে পিএসসি মৌখিক পরীক্ষা নেয়নি। তবে হাল ছাড়েননি সুমনা। দীর্ঘ ১৮ বছর আইনি লড়াই শেষে জিতেছেন সুমনা সরকার। এখন তিনি চট্টগ্রামের লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সুমনা সরকারকে ২৩তম বিশেষ বিসিএসে (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের জন্য সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ

সুমনা সরকার বলেন, বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে বাবা আমাকে পরীক্ষা দিতে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিতেন। পরে আইনি লড়াইয়েও পাশে ছিলেন। গত বছর আমার পক্ষে আদালতের রায় পেলাম, ততদিনে বাবা আর বেঁচে নেই।

সুমনা সরকার বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন ২০০৯ সালে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলার রায় হয়। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করে পিএসসি। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দেন। পরে গত বছরের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হলে পিএসসিকে অসমাপ্ত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। চলতি বছরের ১ জুন সুমনা সরকার পিএসসির চেয়ারম্যান বরাবর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। ৩০ জুন পিএসসি সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহমদের সই করা চিঠিতে সুমনাকে জানানো হয়েছে, রায় বাস্তবায়নে সুমনার মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় কমিশন। মৌখিক পরীক্ষার পরই সুমনাকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ২০০০ সালে বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষা নেয়। ওই বছরের মার্চে প্রিলিমিনারি এবং এপ্রিলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০০৩ সালের জুনে মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে জটিলতার অভিযোগে চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ পড়েন সুমনা সরকার।

সুমনা সরকারের বাবা টাঙ্গাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল কৃষ্ণ সরকার স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here