তালাবদ্ধ ঘরে প্রেমিকার গলাকাটা, চাকু হাতে মৃত প্রেমিকের পেট ক্ষতবিক্ষত

গাজীপুর প্রতিনিধি:নেমেছে সন্ধ্যা। ধীরে ধীরে অন্ধকার হচ্ছে চারদিক। আলো না থাকায় তালাবদ্ধ ঘরটি আরো অন্ধকার হয়ে যায়। আর এ অন্ধকার ঘরেই পড়েছিল প্রেমিকার গলাকাটা লাশ। পাশেই প্রেমিকের। তবে মৃত প্রেমিকের হাতে ছিল ধারালো চাকু। সেই চাকুর অসংখ্য আঘাতও ছিল তার পেটে। কোনো ক্ষোভ থেকেই প্রেমিকার গলায় চাকু চালিয়ে হত্যার পর নিজের পেটে একের পর এক আঘাত করে প্রেমিকও আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা পুলিশের। তবে এ নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

সকালে ছেলেকে বাড়ি রেখে সন্ধ্যায় ফিরে অন্ধকার ঘরে প্রেমিকাসহ ছেলের রক্তাক্ত লাশ এভাবেই দেখেন হৃদয় গোমেজের মা। তার চিৎকারে এগিয়ে আসে আশপাশের লোকজন। খবর দেওয়া হয় থানায়। পরে পুলিশ এসে প্রেমিক-প্রেমিকার লাশ উদ্ধার করে। বুধবার রাত ১০টার দিকে বলছি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের সাতানীপাড়া গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

২৫ বছর বয়সী প্রেমিক হৃদয় গোমেজ সাতানীপাড়া গ্রামের সমর গোমেজের ছেলে। আর ২২ বছর বয়সী প্রেমিকা ইভানা রোজারিও একই উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকার স্বপন রোজারিওর মেয়ে। হৃদয় ব্র্যাকে আর ইভানা একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার আলম জানান, হৃদয় ও ইভানার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে জমি রেজিস্ট্রি করতে কালীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যান হৃদয়ের মা ও চাচা। বাড়িতে একাই ছিলেন হৃদয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফিরে তার মা দেখেন ঘর অন্ধকার। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করেও হৃদয়ের সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন মেঝেতে ছেলে ও তার প্রেমিকার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। এরপর তার চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসেন।

পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে রাত ১০টার দিকে ঘরের বারান্দার গ্রিল ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। সকালে হৃদয়ের মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে কোনো এক সময় প্রেমিকা ইভানা হৃদয়ের কাছে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন হৃদয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, ইভানার গলাকাটা আর হৃদয়ের পেটে অনেকগুলো ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মৃত অবস্থায় তার হাতে চাকু ধরা ছিল। কোনো ক্ষোভ থেকে ইভানার গলায় চাকু চালিয়ে হত্যার পর হৃদয় নিজের পেটে একের পর এক আঘাত করে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ উদ্ধারের পর রাতেই গাজীপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here