বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের করনিককে মারধর করলেন আওয়ামী লীগ নেতা

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের প্রধান করনিককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন মারধর করেন বলে জানান আহত করনিক আ.ন.ম বজলুর রশিদ।

জেলার সিভিল সার্জন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ঢাকায় থাকায় এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বরিশালে আসার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মলয় কৃষ্ণ বড়াল।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্বীকার করেন সিভিল সার্জন অফিস।

আ.ন.ম বজলুর রশিদ বলেন, জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ৬টি বিল্ডিং নিলামে বিক্রির টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল। টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার। আনোয়ার হোসেন নিজের নামে টেন্ডার না কিনলেও অন্যের নাম আর তাঁর মোবাইর নাম্বার দিয়ে দুটি দরপত্র জমা দেন। এসময়ে তিনি আমাকে বলেন, কে কত দামে টেন্ডার জমা দিয়েছে তার তালিকা করে দেওয়ার জন্য। আমি দিতে অস্বীকার করলে পৌনে দুইটার দিকে ১০/১২ জন লোক নিয়ে এসে হাসপাতালে আমার কক্ষে ঢুকে আবারো তালিকা চায়। আমি তখনো দিতে অস্বীকার করি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে টেবিলে রাখা স্ট্যাপলার দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। তবে সরে যাওয়ায় আমার ঘাড়ে আঘাত লাগে। এছাড়াও তিনি আমাকে চড় থাপ্পর দেন।
হাসপাতালের প্রধান করনিক বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক আরএমও স্যারকে জানাই। তিনি সিভিল সার্জন অফিসে জানান। এরপর এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহনের কিছু দেখছি না।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে আনোয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডার নিয়ে তার সাথে কিছু হয়নি। তার বিরুদ্ধে অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে। তিনি নার্সের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। ছুটির আবেদন দিলেও তাকে টাকা দিতে হয়। এসব নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সত্যি কথা হলো তখন তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডঃ মোহাম্মদ মাহামুদ হাসান বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে হাসপাতালের আরএমওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আপনাদের সবিস্তারে জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here