আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস আজ

নিউজ ডেস্কঃ২৩ সেপ্টেম্বর, আজ আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস এবং ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহ’ বিশ্বের সব দেশের মতো বাংলাদেশেও কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী একযোগে উদযাপিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবসে প্রতি বছরের একটি প্রতিপাদ্য থাকে, এ বছরের প্রতিপাদ্য “আমরা মানবাধিকারের জন্য স্বাক্ষর করি।”

এখন করোনার জন্য না হয় স্কুলের ছুটি, কিন্তু একটা সময় ট্রেনে বা বাসে প্রায়ই কয়েকজন স্কুল ছাত্রদের কথা বলতে দেখবেন ইশারায়। এবার প্রশ্ন হল ট্রেনে বা বাসেই কেন ? সব উত্তর পাবেন এই প্রতিবেদনে। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন তারা কিন্তু আপনার দিকে তাকাচ্ছে না কিন্তু আপনি অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকাচ্ছেন। ছোট ছোট স্কুলছাত্ররা ইশারা করে নিজেদের মধ্যেই গল্প করছে আর হেসে চলেছে। ওদের ভাষা আমরা সামান্য সাধারন মানুষ হয়ে কজনই বা বুঝতে পারি। বিশেষ করে যারা শুনতে পান না এবং কথা বলতে পারেন না তাদেরকে আমাদের সমাজ প্রায় তাচ্ছিল্যের চোখেই দেখে।

মফস্বলের অলিতে গলিতে আপনি যেকোন একটি বিদ্যালয় পেয়ে যাবেন, কিন্তু এই বিশেষভাবে সক্ষম বাচ্চাদের জন্য বিদ্যালয় খুঁজতে অনেককে প্রায় নাজেহাল হতে হয়। অনেকের বাবা-মা তাদের এই সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করবেন বলে দূরদূরান্তের বিশেষ স্কুলগুলিতে পাঠান শিক্ষালাভের জন্য। একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন অনেকের সাথেই বাড়ির লোক থাকে।

মাত্র ২ শতাংশ মানুষের সাংকেতিক ভাষা জ্ঞান
পৃথিবীতে প্রায় সাত কোটির বেশি বধির মানুষের বসবাস রয়েছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বাস করেন। তাই এক্ষেত্রে সাংকেতিক ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসলে আমাদের সমাজ পরিবেশের সঙ্গে একটি বিশেষ সক্ষম শিশুকে মানিয়ে নেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহযোগিতার বদলে তাদের জন্য রেখে দেয় নানান বাধা এবং কটু কথা। এই ৮০ শতাংশের মানুষের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ মানুষ সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়।

কেন পালন করা হয় এই দিবস ?
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বধির মানুষদের অধিকারকে আরো দৃঢ় করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস বা সাংকেতিক ভাষা দিবসের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। তারপর ২০১৮ সাল থেকে ২৩ শে সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় এই বিশেষ দিবস। যদিও ইশারায় এমন একটি ভাষা যা কথ্য ভাষার অনেক আগে থেকেই অর্থাৎ সেই আদিম যুগ থেকে মানুষ ব্যবহার করে আসছে। অথচ সেই ভাষা ব্যবহারকারী মানুষদের সমাজ অপাংক্তেয় করে রেখেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here