গোপনে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, কারাগারে সিআইডির কর্মকর্তা

খুলনা প্রতিনিধি:খুলনায় যৌতুক মামলায় সিআইডির এসআই মিঠুন রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার বিকেলে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক দিলরুবা আক্তার তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

খুলনার ডুমুরিয়ার ছেলে মিঠুন রায় ঢাকা সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের সাইবার শাখায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলাটির বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের পিপি অলোকানন্দা দাস ও ড. মো. জাকির হোসেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সেলিনা আক্তার পিয়া।

আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, খুলনার বাটিয়াঘাটার দেবিতলা গ্রামের বিথী বিশ্বাসের সঙ্গে ২০১৫ সালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মিঠুন রায়ের পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিথী বর্তমানে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে মিঠুন রায় বিথীকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ে করে খুলনা ও ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে বিথীকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন। একপর্যায়ে বিথী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান।

পরবর্তীতে মিঠুনকে বিথী তার বাড়িতে স্ত্রী পরিচয়ে নিতে বললে তিনি দুই বিঘা জমি, ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মিঠুন জানতো বিথীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ যার কারণে তারা যৌতুক দিতে পারবে না। যৌতুকের দাবিতে মিঠুন পরে বিথীকে নির্যাতন ও মারধর করা শুরু করেন। পরে বিথী খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন।

অ্যাডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য বটিয়াঘাটার মহিলা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। মিঠুন তার পুলিশের প্রভাব প্রয়োগ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে ফেলেন। এরপর আদালত বিথী বিশ্বাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইবুনালে সরাসরি মামলাটি আমলে নিয়ে মিঠুর বিরুদ্ধে সমন জারি করে। বুধবার মিঠুন রায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীর শুনানি শেষে মিঠুন রায়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। মিঠুন রায়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। একটি হচ্ছে যৌতুক মামলা ও অপরটি পারিবারিক মামলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here