স্ত্রীকে হত্যার ৩ দিন পর সেই জায়গাতেই স্বামীর আহাজারি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্ত্রীকে হত্যার তিন দিন পর সেই জায়গাতেই দা হাতে নিয়ে আহাজারি করেন স্বামী সাদ্দাম হোসেন (৪০)। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় হাউরে এ ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের হাদিস মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৪০)।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে নেত্রকোনার সোহাগপুর গ্রামের মেয়ে ইয়াসমীনের সঙ্গে বিয়ে হয় সাদ্দাম হোসেনের (৩৫)। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী বনিবনা না থাকায় প্রায় দিনই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। কিছুদিন আগেও ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রীকে জবাই করতে যায় সাদ্দাম। এর পর ইয়াসমীন তার বাবার বাড়ি চলে যায়।

এদিকে বেশ কয়েক দিন আগে আবারও ফিরে আসেন স্বামীর বাড়ি। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফের স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। সেদিন স্বামীর সঙ্গে কলহের জেড় ধরে রাত ৮টার দিকে ইয়াসমীন দুই সন্তান নিয়ে পুনরায় বাবার বাড়িতে রওনা হয়। এ সময় ইয়াসমিনের পিছু নেয় সাদ্দাম। পরে পথে হাওড় এলাকায় মদনপুরের রাস্তায় স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে চলে যায়। এ সংবাদ পেয়ে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পুলিশ ইয়াসমীনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিহতের ভাই বকুল মিয়া বাদী হয়ে সাদ্দাম হোসেনসহ ৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সাদ্দাম হোসেন। সে হত্যার পর থেকে ওই হাওরের আশেপাশেই লুকিয়ে ছিল। ঘটনার তিন দিন পর দা হাতে তাকে ওই হাউড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রহস্য জানা যাবে। এর আগে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাওর থেকে সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here