স্ত্রী-পুত্রবধূসহ কোনো নারীকে বাদ দিতেন না সুভাষ, বিকৃত যৌনাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হত্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ষাটোর্ধ্ব সুভাষ চন্দ্র সরকারকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূ। পুলিশ ও আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক জবানবন্দিও দিয়েছেন তারা। তাদের জবানবন্দিতে জানা গেছে- সুযোগ পেলেই স্ত্রী-পুত্রবধূসহ যেকোনো নারীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করতেন সুভাষ। এতে অতিষ্ঠ হয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত সুভাষের বাড়ি ওই উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের ফারুক নগরে। গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়ির পাশের মনাই নদী থেকে সুভাষ চন্দ্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার রাতে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শারীরিকভাবে শক্তিশালী সুভাষ সুযোগ পেলেই যেকোনো নারীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করতেন। যা তার পুত্রবধূ পুলিশকে জানিয়েছেন। সুভাষের বিকৃত যৌনাচার থেকে রেহাই পায়নি কাছের কিছু স্বজনসহ অনেক নারী। দিনদিন সুভাষের বিকৃত আচরণ বেড়েই চলছিল। এক পর্যায়ে তার পরিবারের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। লোকলজ্জায় কাউকে কিছু বলতেও পারছিলেন না তারা। ফলে বাধ্য হয়ে স্ত্রী আরতী রানী সরকার, ছেলে সুজিত চন্দ্র সরকার ও পুত্রবধূ খেলা রানী সরকার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুভাষ বাড়ির পূর্বপাশে তার নৌকায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময় স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূ নিজেদের গোয়ালঘর থেকে রশি নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের নিয়ে সুজিত তার বাবাকে খোঁজার নাটক করেন। এক পর্যায়ে নদীতে লাশ পাওয়া গেলে পুলিশকে খবর দেন তিনি।

পরে ওই রাতেই ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকারের উপস্থিতিতে সুভাষ চন্দ্র সরকারের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদে সুভাষের স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূ পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেন। শুক্রবার সুনামগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকারীরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল চন্দ্র দেব বলেন, সুভাষের মেয়ে নীভা রানী তালুকদার অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছিলেন। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here