জীবন যুদ্ধে হার না মানা বৃদ্ধ মনতাজ

রেজুয়ান আলম, ধামইরহাট:নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকময়রাম নামক এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মনতাজের বয়স প্রায় সত্তর বছর ছঁই ছুঁই। শরীরের চামড়া দেখেই বুঝা যায় তিনি বয়সে কতটা প্রবীণ। অভাবের সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে তিনি এ বয়সে এসেও আইসক্রিমের ফেরিওয়ালা হয়ে ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে।

রাস্তার পাশে ছোট শিশুদের কাছে আইসক্রিম বিক্রি করার সময় দেখা মিললো বৃদ্ধ মনতাজের সঙ্গে। পায়ে চালিত জংধরা ভ্যানগাড়িটি বৃদ্ধের একমাত্র সম্বল। ভ্যান এর মাঝখানে বসানো রয়েছে একটি বাক্স সেখানে রাখা কিছু আইসক্রিমের ছবি দিয়ে লেখা রয়েছে মিতু সুপার আইসক্রিম। সেগুলো প্রকারভেদে আইসক্রিমের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা।

আলাপচারিতায় জানা হলো, ঘরে তার একমাত্র জীবন সঙ্গিনী মোসা. মেন্নাছা রয়েছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে দিন পার করছেন। স্ত্রীর চিকিৎসা খরচের অর্থ আর সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিদিন সকালে আইসক্রিমের ফেরিওয়ালা হয়ে ঘর থেকে বের হতে হয় তাকে। মেয়ে নেই তিন ছেলে, কাজ কর্ম করে যা অর্থ পান তাতে ওদের সংসারই ঠিকমত চলেনা।

জানা গেছে, স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তার সবচাইতে বড় কাস্টমার। করোনাকালীন সময়ে এসে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় থমকে গেছে তার রুজি-রোজগারের পথ । তবুও তিনি থেমে নেই গ্রামে-গঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ভ্যান গাড়ির হর্ন বাজাতেই আইসক্রিম কিনতে ছুটে আসে ক্ষুদে ছেলে-মেয়েরা।

বৃদ্ধ মনতাজ বলেন, ‘ছোট ছোট শিশুরা যখন আমার কাছে ছুটে এসে বলে, দাদু আমাকে একটা আইসক্রিম দাও তখন ওদের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে যাই। ওদের কাছে আমার সারাটা বেলা এভাবেই কেটে যায়। আবার যখন ঘরে ফিরি তখন অর্থের কষ্টগুলো এসে আবারো ভিড় করে। এই জরাজীর্ণ শরীর নিয়ে দশটি বছর কেটে গেল ফেরিওয়ালা হয়ে। ঘরের মানুষটি আমার পড়ে আছে অনেক কষ্ট নিয়ে।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বারে, আগের মতো করে আর আইসক্রিম বিক্রি হয়না। পাঁচ টাকা, দশ টাকায় বিক্রি করে আর কয় টাকায় বা লাভ হয়’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here