পটুয়াখালীর গলাচিপা্র চরকাজলে পুলিশ ক্যাম্প হওয়ায় স্বস্তিতে দ্বীপ বাসী

 

সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী ঃপটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প হওয়ায় স্বস্তিতে জীবনযাপন করছে উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার ও একটি নদীসহ প্রায়২২ কিলোমিটার দূরত্বে বিছিন্ন দুটি ইউনিয়নের জনগণ। আস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প হওয়ায় স্বস্তিতে দূর্গম জনপদের বাসীন্দারা।

গত ১৮ই মে পটুয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান ও গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আনোয়ার চরশিবা শুক্রবারিয়া বাজারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন।

এ অঞ্চলটিতে পুলিশ স্থায়ীভাবে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই অপরাধীরা গর্তে লুকিয়েছে। মাদক, চোরাচালান, জুয়া, গরু চুরিসহ সকল ধরনের অপরাধ কমে আসছে। বিছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য গত ১২ মে গরু চোর সন্দেহে আল-আমিন সরদার (২২) নামে এক যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়। এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য এই অঞ্চল বাসীর দাবি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পটি কমসময়ের মধ্যে স্থায়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র করা। যাতে এই অঞ্চলের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

নিম্ন অঞ্চল হওয়ায় অপ্রাপ্ত বয়সে ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতো এখানকার পরিবার গুলো।পুলিশ ক্যাম্প হওয়ায় বাল্যবিবাহ প্রবনতা অনেকটাই কমে এসেছে। এস আই (নিঃ) নুরুন নবী ও এ এস আই সূদন এর অক্লান্ত পরিশ্রমে সালিশ ব্যাবস্থার মাধ্যমে জমি-জমা সমস্যা, পারিবারিক কোন্দল সহ নানা ধরণের সমস্যা গুলো খুব সহজেই সমাধান পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।চরকাজল ও চরবিশ্বাস দুটি ইউনিয়নের মানুষের একমাত্র ভরসার স্থল হয়ে উঠেছে পুলিশ ক্যাম্প। করোনা মহামারী সচেতন মূলক ক্যাম্পেইন সহ মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ক্যাম্প থেকে সমাধান পাওয়া এক ভুক্তভোগী জানান, এখানে পুলিশ ক্যাম্পটি থাকায় আমরা খুব সহজে অভিযোগ দিতে পারছি। এর আগে একটি অভিযোগ করতে গলাচিপা থানায় যাওয়া লাগত।খরচ হত জন প্রতি চার-পাঁচশ টাকা। যা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে যেত।এখন চরশিবা পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ করতে পারছি এবং খুব দ্রুত সমাধান পাচ্ছি।

সমাজ সেবক আলাউদ্দিন কাজী বলেন, পুলিশ অবস্থান নেওয়ার পর থেকে বেপরোয়া ভাবে আড্ডা দেওয়া, মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা, জুয়ার আড্ডা সহ সামাজিক অপরাধ গুলো এখন আর চোখে পরে না।বলা যায় অনেকটাই নির্মূল হয়েছে সামাজিক অপরাধ।

পুলিশ ক্যাম্পের এস আই(নিঃ) মোঃ নুরুন নবী জানান, দুর্গম জনপদ হওয়ায় এ অঞ্চলে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়েও উপজেলা সদর থানা থেকে আসতে দেড়-দু ঘন্টা লেগে যেত, ততক্ষণে অপরাধীরা আন্তঃজেলা সীমানা পাড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। এখন চরশিবায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প হওয়ায় আমাদের অপরাধ নির্মূলে সুবিধা হচ্ছে। এখানকার দুটি ইউনিয়নের সমস্যা গুলো সমাধান করতে পারছি। নিয়মিত আমরা ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি গ্রেফতার করছি এবং মাদক ও জুয়ায় আস্থানায় অভিযান চালাচ্ছি।গত আড়াই-তিন মাসে ৪০-৪৫ জন ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করছি। যেহেতু দূর্গম এলাকা আইনশৃঙ্খলার বিষয় তারা অনেকটাই অবগত নয়। পাশাপাশি এই জনপদের মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি জন্য সব-সময় কাজ করছি। যাতে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রুবেল বলেন, আমরা উপজেলা সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অবস্থান করছি। এ দ্বীপে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের বসবাস এবং পটুয়াখালী ও ভোলা আন্তঃজেলা সীমানা এই এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপ অঞ্চল বাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু মহোদয়ের কাছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প টি স্থায়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তাহলে এ দুর্গম এলাকার মানুষ একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here