করোনার ধাক্কায় ব্যয় হয়নি উন্নয়ন খাতের বিপুল টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃদেশের উন্নয়ন করোনা মহামারীর ধাক্কায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন খাতের বিপুল টাকা খরচ হয়নি। ওই টাকার পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকাও বেশি। ফলে সার্বিকভাবে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ওই হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে আরএডিপি বাস্তবায়ন হার কিছুটা বাড়লেও করোনার আগের ৩ অর্থবছরের তুলনায় তা অনেক কম। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বাস্থ্য খাতে ২০২০-২১ অর্থবছরে আরএডিপি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৭ লাখ টাকা অব্যয়িত রয়ে যায়। তবে আরএডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ওই বিভাগের বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ১০৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর সবার নিচে রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয়েল আরএডিপি বাস্তবায়ন হার ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ।
সূত্র জানায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ৫ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার ধরা হয় ২ লাখ ৯ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে (জুন-জুলাই) মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। ফলে ৩৭ হাজার ২২২ কোটি টাকা খরচ করা যায়নি। তার মধ্যে সরকারি তহবিলের ২২ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তার ১০ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিলের ৪ হাজার ১৯ কোটি টাকা আছে। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। আরএডিপি বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছিল ৮২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ওই হিসাবে করোনার মধ্যেও বাস্তবায়ন হার কিছুটা বেড়েছে।
সূত্র আরো জানায়, অর্থবছরের শেষ মাসে খরচের হিড়িক পড়েছিল। জুনে আরএডিপির আওতায় খরচ হয়েছে ৪৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার ৭০৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১২ হাজার ৯২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৮৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুনে খরচ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৩১৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বা ২৩ দশমিক ০২ শতাংশ।
এদিকে করোনা মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্য খাতে অব্যয়িত রয়েছে ৫ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতের আওতায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। ওসব প্রকল্পের অনুকূলে ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কিন্তু পুরো অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ফলে ওই বিভাগে অব্যয়িত রয়েছে ৫ হাজার ৪১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তাছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৫টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৮৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আর অব্যয়িত রয়েছে ৩১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অথচ করোনা মহামারি শুরুর আগের তিন অর্থবছর আরএডিপির বাস্তবায়ন ৯০ শতাংশের উপরে ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তাছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাস্তবায়ন হয় ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আরএডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ১০৪ দশমিক ২৭ শতাংশ আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে। তারপরই রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১০১ দশমিক ২৯ শতাংশ। তাছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, আইএমইডি ৯৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে। আরএডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগ।
এ বিষয়ে আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, করোনা মহামারী লক্ষ্য অর্জনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেজন্যই প্রকল্প বাস্তবায়ন কম হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ছিল কৃষি ও স্বাস্থ্য ছাড়া অন্য সব মন্ত্রণালয়ের ১৫ শতাংশ অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে। বো কারণেও বেশি টাকা খরচ করা যায়নি। তাছাড়া সাধারণত যেসব কারণে এডিপির বাস্তবায়ন কম হয় সেগুলো তো ছিলই। তবে কোভিড-১৯ না থাকলে এতো কম খরচ হতো না। আরো অনেক বেশিই ব্যয় করা সম্ভব ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here