‘মুই আর অত্যাচার সহ্য করবা পারছু না’

দিনাজপুর  প্রতিনিধি:দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের কুশাপাড়া গ্রামের আমেনা বেগম (৯০)। প্রায় ৩০ বছর আগে তার স্বামী মারা যায়। এ সময় রেখে যায় একটি মেয়ে সন্তান। সেই মেয়েও মারা যাবার পরে নাতিকে নিয়ে দুঃখে-কষ্টে জীবন পার করছিল আমেনা বেগম।

আমেনা বেগম ধারণা করতে পারেননি জীবন যুদ্ধের শেষ সময়ে এসে নিজের নাতি (মেয়ের ছেলে) দ্বারাই প্রতারিত হতে হবে তাকে। বৃদ্ধার ভিটে-মাটি, জমি কৌশলে নিজের নামে করিয়ে নেয় তার নাতি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় অত্যাচার করেন। অমানবিক অত্যাচার আর শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র কাছে ন্যায্য বিচারের আশায় ঘুরছেন তিনি। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা হয়েছে তার।

আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে আরটিভি নিউজকে বলেন, ’মোর তোরা বিচার করে দেও। মুই আর অত্যাচার সহ্য করবা পারছু না। নাতি কইছে খাওন দিবি, কাপড়া দিবি, যতিদন মুই বাঁচমু সব দিবি। এই বলে মোর তিন শতক জায়গা-কুনা লিখে নিছে। এখন ক্যাছুই (কিছুই) দেয় না। ঘাড়ধাক্কা দিয়ে মোক বায়ীত্তে (বাড়ি থেকে) বেড় করে দেছে। তোরা এর বিচার করে দেও, মোর স্বামীর ভিটেবাড়ি নিয়ে দেও মোক’।

তিনি জানান, নাতি শাহার আলম তাকে বিভিন্ন আশা দেখিয়ে তার শেষ সম্বল টুকু (বাড়িভিটে) নিজ নামে লেখে নেন। কথা ছিলো যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন ততোদিন নাতি শাহার আলম তার সকল ভরণপোষণ চালিয়ে যাবে। কিন্তু কোন শর্তও রাখছেন না তার নাতি। বারংবার বের করেও দেয়া হয় তাকে। শুধু তাই নয় বৃদ্ধা আমেনাকে শারীরিক অত্যাচারও করে নাতি। বহুবার গলা ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছে পাষণ্ড নাতি শাহা আলম।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর-এ আলম আরটিভি নিউজকে বলেন, আলীহাট ইউনিয়নের কুশাপাড়া গ্রামের বয়স্ক আমেনা বেগম তার বিচার চাইতে আমার নিকট এসেছিলেন। আমি তৎক্ষণাৎ উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান করবেন এবং প্রয়োজনে আমি নিজেই ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে তার সমস্যার সমাধান করবো।

হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন আরটিভি নিউজকে জানান, আমার কাছে কুশাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা মহিলা আমেনা বেগম তার নাতির বিষয়ে অভিযোগ করেছে। তিনি একেবারেই বৃদ্ধ মানুষ। বিষয়টি অমানবিক এবং দুঃখজনক। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি এর সঠিক ব্যবস্থা নিতে। প্রয়োজনে ইউএনও’কে নিয়ে আমি সরেজমিনে যাবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here