‘ভাই, তোরা বেঁচে থাকলে ১৫ দিন পর আবার দেখা হবে’- চিকিৎসকের মর্মস্পর্শী চিরকুট

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:‘ভাই, তোরা বেঁচে থাকলে ১৫ দিন পর আবার দেখা হবে।’ ১৫ দিনের শিফটের ডিউটি শেষে টিম ‘এ’ টিম ‘বি’র উদ্দেশে এমন মর্মস্পর্শী লেখাটি লিখে যায় চিকিৎসকরা। চট্টগ্রামে করোনা ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের রুমের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো একটি চিরকুট এটি।

হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমিতও হচ্ছেন। তবে সব চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিষ্ঠার সঙ্গে পালাবদল করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আর তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘থ্যাঙ্ক ইউ ওয়ারিয়র্স, ফর ইউর কন্টিনিউয়াস সাপোর্ট, ডেডিকেশন অ্যান্ড সেক্রিফাইস’ লিখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, রোগী বেড়ে যাওয়ায় ১৮ শয্যার আরেকটি করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসপাতালের কন্সালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, দেড় বছর ধরে আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা শিফটিং দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনেক চিকিৎসক এবং পরিবার আক্রান্ত। তবু আমরা রোগীর সেবা অব্যাহত রেখেছি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগ

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগ

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জেনারেল হাসপাতালের রোগীর স্বার্থে সব সিনিয়র চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের ৬০ জন চিকিৎসকও কর্মরত আছেন। করোনাকালে জেনারেল হাসপাতাল রোগীদের সেবায় অন্য রকম ভূমিকা রেখে চলেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর মার্চে করোনার প্রকোপ শুরু হলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা চলে ২০০ শয্যায়। অন্যদিকে জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আইসোলেশনের ৬০টি শয্যা, ছয়টি আইসিইউ শয্যা ও ছয়টি এইচডিইউ শয্যা পরিচালিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here