সময় বহিয়া যায়, নদীর স্রোতের ন্যায়

মাহমুদ হোসেন:লকডাউনে অবরুদ্ধ আছি। রীতিমত গৃহবন্দী। অহেতুক বহির্গমন স্থাস্থ্যবিধি বহির্ভুত। এ যেন এক শৃংখলবিহীন বন্দী জীবন। অলস বসে থাকার চেয়ে দু’কলম লেখার চেষ্টা করছি। যদি তা কারো কোন বিন্দুমাত্র কাজে লাগে তাহলে যার পর নাই আনন্দ পাব। সর্বশক্তিমানের কাছে কায়মন বাক্যে করোনা মুক্তির কামনা রেখে লেখা শুরু করছি।
বঙ্গবন্ধুর কথা মনে করলে মনটা এক অজানা ব্যথায় ভারাক্রান্ত হয়। ওটা এক তীব্র তুষের আগুন যাতে ফু দিলেই কষ্ট বাড়ে। তাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেই ক্ষান্ত হলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু কিছু কথা সর্বদাই মনে পড়ে। তিনি প্রায়শঃ বলে থাকেন – ১) “বাংলাদেশের একটি লোকও গৃহহীন থাকবে না, প্রত্যেকের একটা ঘর থাকবে”। ২) “প্রতিটি জেলায় রেল লাইন যাবে”। ৩) “প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে”। ৪) ” কোন মানুষ অভূক্ত থাকবে না” ইত্যাদি। তাঁর প্রতিটি কথায় গভীর দেশপ্রেম জড়িয়ে আছে তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নাই। কাজগুলি করতে প্রচুর সময়, শ্রম আর অর্থ প্রয়োজন। এর আগে যে সব মেগা প্রকল্পের কাজগুলো চলমান আছে সেগুলো যথাশীঘ্র শেষ করা দরকার যেমন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিমান বন্দর থার্ড টার্মিনাল, কর্ণফুলী ট্যানেল, এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ইত্যাদি। করোনার ছোবলের মধ্যে শ্লথ গতিতে হলেও প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এটা আশার কথা। যাই হোক যেখানে যতটুকু বাকী আছে সেখানে কাজ চলা দরকার ২৪ ঘন্টা (Round the clock)।
চলতি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পরবর্তী যে কোন প্রকল্পের কাজে গতি আর সাহস সঞ্চারিত হবে।
ইংরেজীতে প্রবাদ আছে – “Time and tide waits for none”
অর্থাৎ সময় আর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। দেখা যাবে উপরোক্ত সব প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই সংসদ নির্বাচন চলে আসবে। তখন আবার প্রকল্প শেষ করার দোহাই দিয়ে ভোট চাইলে জনগণকেও আর আকৃষ্ট করা যাবে না। এটা মেহেদী হাসানের গজল অথবা হেমন্ত দা’র গান নয় যে বার বার শুনলেও বিরক্ত লগেবে না। পরবর্তীতে ভোট পেতে হলে আগে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে, পরে ভোট চাওয়া।
এ প্রসংগে মান্যবর পীর হাবিবুর রহমান যথার্থ বলেছেন – “গণমানুষের দল আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে দলকে আদর্শের ধারায় সব লোভ লালসার উর্ধে উঠে জনগণের হৃদয় জয় করেই ফিরিয়ে আনতে হবে”। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, পৃষ্ঠা-৪, তারিখে- ২৮ জুলাই ২০২১]
শিখরে উঠতে হলে সর্বাগ্রে যেতে হবে শিকড়ে। গাছের গোড়ায় না গিয়ে লম্ফ দিয়ে কেউ আগায় উঠতে পারে না। সংসদ সদস্য তো বাটেই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা কর্মীকে যেতে হবে প্রত্যেকটি ভূখা ফাঁকা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। করোনায় বিপর্যস্থ অসহায় মানুষকে অন্ন, বস্ত্র আশ্রয় আর চিকিৎসা দিয়ে সাহায্য করার এই তো সময়।
এই প্রসংগে স্যালুট জানাই ঢাকা দক্ষিনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব মো: মকবুল হোসেনকে যিনি করোনার শুরুতে ভোটার লিষ্টের ঠিকানা দেখে দেখে নিরন্ন মানুষের ঘরে ঘরে সাদ্য সমাগ্রী পৌছে দিয়েছেন। “ঘোড়া চিনে ময়দানে আর বান্ধব চিনে নিদানে”। জনাব মো: মকবুল হোসেন নিদানের বান্ধব। সাহায্য গৃহিতাদের বিবেক জাগ্রত থাকলে জনাব মো: মকবুল হোসেন তাদের কাছে আর ভোট চাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
করোনার ছোবলের শুরু থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রে একাই বীরদর্পে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রানপণ চেষ্টা করেছেন। যতদূর মনে পড়ে অন্তত ছয় মাস উনাকে চিন্তিত এবং বিমর্ষ দেখেছি। ঐ সময় উনার মুখে হাসি বলতে কিছুই ছিল না কিন্তু কথা হচ্ছে –  “A man can not play all thing simultaneously” একজন মানুষ একসাথে সবকিছু করতে পারে না। এ জন্য হয়ত তিনি সচিব, ডিসি এবং অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তাগণের সহায়তা
নিতে চেষ্টা করেছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়েছে। কর্মকর্তাগণ বিপন্ন মানুষের দোড়গোড়ায় যান নি। তাদের দুর্দশার কথা কান পেতে শোনেন নি। সে ক্ষেত্রে এম পি বা জনপ্রতিনিধি হলে প্রত্যেকের দ্বারে দ্বারে যেতে বাধ্য থাকতেন তার কারণ তিনি ভাল করেই জানেন ভোটের মাঠে এসব জনগণ তাঁর নিতান্ত প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে মাননীয় সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী জনাব তোফায়েল আহমেদ সঠিক বলেছেন ” এম.পি’রা সচিবদের উপরে, এটা খেয়াল রাখতে হবে”। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, পৃষ্ঠা-১, তারিখ-২৯ জুন ২০২১]
যতদূর মনে পড়ে- প্রায় এক যুগ আগের কথা। মিসেস প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসাবে বাংলাদেশে বেশ কিছু দিন কর্মরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর (ধানমন্ডির ৩২নং সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাড়ী) পরিদর্শন শেষে দু:খ করে বলেছিলেন – “বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের যতটা ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে হাজার হাজার গুন ক্ষতি হয়েছে দেশ এবং জাতির”।
একজন বিদেশী হয়েও তিনি এভাবে বঙ্গবন্ধুর অভাব উপলদ্ধি করেছিলেন। আজিকার এই দিনে আমরা যে যত কথাই বলি না কেন, বাংলাদেশ আর বাঙ্গালীকে বঙ্গবন্ধুর চাইতে বেশী ভালবাসেন এ কথা বুকে হাত দিয়ে (হলফ করে) কেউ বলতে পারবেন কি ? বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ আজও কানে বাজে –
” আমি প্রধান মন্ত্রীত্ব চাই না, আমি এ দেশের মানুষের অধিকার চাই “। যে যত বড় নেতাই হোন না কেন যদি বলেন আমি বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর চাইতে বেশী ভালবাসি, আমি তা বিশ্বাস করি না। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা বিশ্বাস করি এই কারণে তিনি বঙ্গবন্ধুর চাইতে বেশীদিন বেঁচে আছেন এবং দেশ শাসন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচেছিলেন মাত্র ৫৫ বছর আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বয়স প্রায় ৭৪ বছর।
বঙ্গবন্ধুকে ইহ জনমে আর আমরা পাব না তবে আমাদের সৌভাগ্য যে তাঁর সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনাকে আমরা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে যেমন আমরা পাচ্ছি না, তেমনি একথা নিষ্ঠুর হলেও সত্য যে শেখ হাসিনা হারিয়ে গেলে আর একজন শেখ হাসিনাকেও আমরা আর পাব না।
সিনিয়র সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান যথার্থই বলেছেন – ” শুধু আওয়ামীলীগেই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার বিকল্প কেবল শেখ হাসিনাই”। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, পৃষ্ঠা-৪, তারিখ-২৮ জুলাই ২০২১]
লেখার শেষ প্রান্তে দাড়িয়েছি। এ লেখার জন্য কোন কিছুই আমার চাওয়া পাওয়ার নাই। প্রতিটি জেলায় রেল লাইন যাবে, মেডিকেল কলেজ হবে, কোন মানুষ অভুক্ত আর গৃহহীন থাকবে না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঐকান্তিক আকাংখাগুলোই আমার একমাত্র চাওয়া পাওয়া। এ কাজগুলো সম্পন্ন করার তৌফিক যেন আল্লাহ্ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেন। অন্ততঃ ততদিন যেন খোদা উনার হায়াতকে দারাজ করেন, ওটাই আমার পরম পাওয়া। আমিন !!!
লেখক: মাহমুদ হোসেন।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here