খুলনার ১৭ থানায় এক বছরে চার হাজার মামলা

খুলনা প্রতিনিধি:খুলনা জেলায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও কমেনি অপরাধ প্রবণতা। থেমে নেই ধর্ষণ, হত্যা, ডাকাতি, চুরি ও মাদকের কারবার। গত এক বছরে জেলার ১৭টি থানায় প্রায় চার হাজার মামলা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মহানগরীর ৮টি থানা এবং জেলার ৯টি থানার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই সময়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মাদক। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে প্রায় দুই হাজার। এছাড়া একই সময়ে জেলায় ৩৬টি হত্যাসহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রায় শতাধিক।

১৭টি থানার তথ্য পর্যাবেক্ষণ করে আরো দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও থেমে নেই মাদক উদ্ধার। জেলার অনেকেই বাড়িতে চাষ করছে গাঁজা গাছ। প্রায় প্রতিদিনই মদ, বিয়ার, ইয়াবা উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করছে পুলিশ।

এদিকে, গত এক বছরে জমির বিরোধ ও পারিবারিক কলহের কারণে হত্যা সংঘটিত হয়েছে ৩৬টি। এসব মামলায় বেশ তৎপরতা দেখিয়েছে পুলিশও, দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আসামিদের। ধর্ষণের ঘটনাও কম নয়; গড়ে প্রতি মাসে ৮টির বেশি ধর্ষণ মামলা হয়েছে থানাগুলোয়। এর মধ্যে অধিকাংশ ধর্ষণ হয়েছে প্রতারণা ও পারিবারিক বিবাদের কারণে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহানগরীর ৮টি থানা এবং ৯টি উপজেলায় গত এক বছরে মামলা হয়েছে তিন হাজার ৯৭৬টি। এর মধ্যে হত্যা ৩৬টি, ধর্ষণ ৯৯টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ২৪১টি এবং মাদকের মামলা ১ হাজার ৯৯১টি। নগরীর ৮টি থানায় মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১০২টি। এর মধ্যে হত্যা ১৩টি, ধর্ষণ ৪৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১ হাজার ৩৫৮টি। ৯টি উপজেলায় মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৪টি, হত্যা ২৩টি, ধর্ষণ ৫৫টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৫৯টি এবং মাদকের মামলা ৬৩৩টি।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. শাহজাহান শেখ বলেন, মহানগরীর ৩৮টি পয়েন্টে চেকপোস্ট, ২৯টি মোবাইল টিম, ১৮টি হোন্ডা মোবাইল টিম ও ৪টি পিকেট ডিউটি চলছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। হত্যার বিষয়গুলো বেশিরভাগ পারিবারিক ঘটনা। আসামিরা গ্রেফতার হয়েছে। প্রতারণার শিকার হয়ে এবং পারিবারিকভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সবক্ষেত্রে মামলা নেয়ার আগে যাচাই-বাছাই করি। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পায়।

তিনি আরো বলেন, মাদকের বিষয়ে ৯টি থানার পুলিশ খুবই তৎপর। এছাড়া ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন ও মাদকবিরোধী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা গণসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here