তিন পুরুষের সঙ্গে নারীর একান্ত সময়, ৫ বছর পর মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তিনজনের সঙ্গে ছিল প্রেম। একে একে তিন প্রেমিককেই দিতেন একান্ত সময়। এর মধ্যে একজন ৩৫ বছর বয়সী শাহ আলম। তিনিও প্রায়ই গোপন সময় কাটাতেন। একদিন প্রেমিকার আরো দুই প্রেমিকের কথা জানতে পারেন এ যুবক। এতেই কাল হলো তার। তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিলেন প্রেমিকাসহ দুই প্রেমিক।

ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের বেলকুচির। পাঁচ বছর আগে উপজেলার চর বেলকুচি গ্রামে ঘটনাটি ঘটলেও গতকাল বুধবার চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের সিআইডি টিম।

নিহত শাহ আলম বেলকুচি উপজেলার বওড়া গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে। তিনি একটি বেকারি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর সাখাওয়াত হোসেন জানান, বওড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নারীর সঙ্গে শাহ আলমসহ তিনজনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি শাহ আলম জানতে পেরে ওই নারীকে গালাগাল করেন। একই সঙ্গে বাকি দুজনকে তার কাছে আসতে মানা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ আলমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই নারীসহ দুই পরকীয়া প্রেমিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগ খুঁজতে থাকেন তারা।

২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে ওই নারীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটাতে এসে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন শাহ আলম। এ সুযোগে বালিশচাপা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন পরকীয়া প্রেমিকাসহ তার অপর দুই প্রেমিক। লাশ গুম করতে দুর্গম যমুনা নদীর চরের পাটক্ষেতে ফেলে রাখেন।

ঘটনার দুদিন পর যমুনার চরের পাটক্ষেত থেকে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেলকুচি থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী শিরিনা বেগম।

বেলকুচি থানা পুলিশ দীর্ঘ চেষ্টার পর মামলাটি সিরাজগঞ্জ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর মামলাটির তদন্তভার পান সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩ আগস্ট রাতে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেল স্টেশন এলাকা থেকে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামি মো. জুলহাস ওরফে জুলুকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে সিরাজগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। সেখানেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here